নারীস্বাস্থ্যের জন্য যা জানা জরুরি

১৩ মে ২০২২, ০৮:৩০ এএম

ফাইল ছবি

Runner Media

ডেস্ক রিপোর্ট :

নিজের শরীর আর স্বাস্থ্য নিয়ে এখনো নারী অসচেতন। খুব বড় সমস্যা না হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সংকোচ বোধ করেন। অথচ সচেতন থাকলে নীরোগ থেকেই জীবনযাপন করা সম্ভব।

কৈশোর : কৈশোরে একজন মেয়ের হরমোনের প্রভাবে স্তন বৃদ্ধি, মাসিকের আরম্ভ থেকে ওজন বৃদ্ধি, ত্বকের সমস্যা, আবেগের সমস্যা হতে পারে। শুরুতে অনিয়মিত মাসিক, প্রচ- ব্যথা, বমি, মাথা ঘোরাএসব নিয়ে মায়ের সঙ্গেও কথা বলতে দ্বিধা। এই বয়সে একটি মেয়ের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, থাইরয়েডের সমস্যা, এন্ডোমেট্রিওসিস, মাইগ্রেনসহ নানা সমস্যা হতে পারে। হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, ব্রণের প্রাদুর্ভাব, অনিয়মিত মাসিক হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা, বিষণ্নতা, প্যানিক বা ফোবিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, প্রয়োজনে মনোচিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

প্রজননকাল : সন্তান নেওয়ার আগে শারীরিক চেকআপের নামই প্রি-কনসেপশনাল চেকআপ। এ সময় উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে কি না, থাইরয়েড হরমোনের অবস্থা কেমন দেখে নিতে হবে। অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা থাকলে কারণ খুঁজতে হবে। মাইনর থ্যালাসেমিয়া বা মাইনর ট্রেইটগুলো অনেক সময় সন্তান নেওয়ার সময়ই ধরা পড়ে। যদি জেনেটিক রক্তরোগ থাকে, তবে স্বামীর পরীক্ষা করাও জরুরি। অনেকেরই অতিরিক্ত ওজন বা অতি কম ওজনের সমস্যা আছে, সন্তান নেওয়ার আগেই ঠিক করা জরুরি। হেপাটাইটিস-বি টিকা না দেওয়া থাকলে টাইটার (অ্যান্টিবডি টেস্ট) দেখে টিকা নিতে হবে। হাঁপানি, মৃগীরোগ, বাতরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্ রোগের মতো কোনো রোগ যদি থাকে তবে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার আগেই চিকিৎসা জরুরি।

মেনোপজের পর মেয়েদের নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, রক্তচাপ, চর্বি ও শর্করার সুনিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসব-পরবর্তী মেয়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, আরও পরে এ থেকে জরায়ু নিচে নেমে আসা, পাইলসের মতো সমস্যা সৃষ্টি হয়। ছোটখাটো সমস্যাগুলো অবহেলা করা উচিত নয়। অন্তঃসত্ত্বা ও ব্রেস্ট ফিডিংয়ের সময় সঠিক পুষ্টি ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দরকার। প্রসবের পর বা সিজারের পর যেন সংক্রমণ না হয়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকা। প্রসবকালীন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস থাকলে প্রসব-পরবর্তী ৬-১২ সপ্তাহের মধ্যে ফলোআপ জরুরি। থাইরয়েড ও অন্যান্য নিয়মিত ওষুধগুলোরও প্রসব-পরবতী ৬-১২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন অ্যাডজাস্টমেন্টের দরকার। প্রসব-পরবর্তী সময়ে প্রস্রাবে সংক্রমণ, সিজারের ঘায়ে সংক্রমণ, অ্যানিমিয়া হতে পারে। পরবর্তী সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা এবং মধ্যবর্তী সময়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কী হবে, তা-ও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ, জরায়ুর প্রলাপস, পাইলস, মূত্রথলির টোন নষ্ট হওয়া খুবই স্বাভাবিক।


 
মধ্যবয়স : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, রক্তে চর্বির আধিক্য, ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। তাই ৪০-এর পর রুটিন চেকআপ জরুরি। বছরে একবার রক্তে শর্করা বা চর্বি পরীক্ষা, কিডনি বা প্রস্রাবে আমিষের উপস্থিতি পরীক্ষা, নিয়মিত চোখ বা দাঁত পরীক্ষা করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরেসিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস জাতীয় রোগ বেশি হয়। এমনটা হলে অবহেলা করা যাবে না। ৪০-এর পর হঠাৎ ওজন হ্রাস, রক্তশূন্যতা, অরুচি, পেটব্যথা, হজমের গোলমাল হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হতে হবে। নারীদের জন্য স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখ ক্যানসারের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা, বছরে বা তিন বছরে একবার স্তনের আলট্রাসনোগ্রাফি বা ম্যামোগ্রাফি, নিয়ম করে প্যাপস স্মিয়ার টেস্ট করা জরুরি। মেনোপজের পর মেয়েদের নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, রক্তচাপ, চর্বি ও শর্করার সুনিয়ন্ত্রণ জরুরি।

বার্ধক্য : বয়স্ক নারীদের জন্য অস্টিওপরোসিস ও হাড় ভাঙা বড় সমস্যা। অস্টিওপরোসিস শনাক্ত করার পরীক্ষা হলো বোন মিনারেল ডেনসিটি, চিকিৎসক সন্দেহ করলে তা করতে পারেন। অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণ, ব্যালান্স এক্সারসাইজ এবং ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি গ্রহণ করা যায়। এ ছাড়া বয়স্ক নারীরও স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। রক্তচাপ, শর্করা, ওজন ও চর্বি নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো যায়। নারীদের বিশেষ ধরনের ক্যানসারের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যানসার (যেমন ফুসফুস, পাকস্থলী, কোলন) হতে পারে। তাই মেয়েলি উপসর্গ ছাড়াও যেকোনো মন্দ উপসর্গ দেখা দিলেই সতর্ক হওয়া উচিত। এই বয়সে বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ, জরায়ুর প্রলাপস, পাইলস, মূত্রথলির টোন নষ্ট হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই পরিবারে বয়স্ক নারীর বিশেষ যত্ন ও খেয়াল রাখা দরকার।