লন্ডনে ভেজা ড্রামের মতো ফ্ল্যাটে ৪ সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন এক মা

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৪৯ পিএম

Runner Media

যুক্তরাজ্য অফিস

লন্ডনে হাউজিংয়ের সমস্যার শেষ নেই। হাজার হাজার পরিবার প্রতিনিয়ত নানাভাবে যন্ত্রনার শিকার হচ্ছেন হাউজিংয়ের নানা সমস্যার কারনে।

লুইশামের এক পরিবার তাদের প্রিম্যাচুয়ার বাচ্চা মানে সময়ের আগে জন্ম নেয়া বাচ্চা নিয়ে ঘরে যে সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে ড্রামে বন্দি কাঁকড়ার মতো! এমনিতেই বাসায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশী মানুষ, তার উপর আবার ১ দশক ধরে এই সমস্যা!

ব্রায়ান গারসন নামের এক বাবা বলেন, তার স্ত্রী কেলিমেরী, ৪ সন্তান নিয়ে ২ বেডরুমের এক বাসায় বসবাস করছেন সাউথ ইষ্ট লন্ডনের ব্রোকলী এলাকায়।

বাবা ভয়ার্ত গলায় সংবাদ মাধ্যমকে বলছেন, বাসায় মারাত্মক আকারের ছত্রাক ও স্যাঁতস্যাঁতে থাকার কারনে বাচ্চারা নিয়মিত শ্বাসকষ্টে ভুগছে! আর এই ফ্ল্যাটের মালিক অপ্টিভো হাউজিং। তাদেরকে ১০ বছর ধরে বলার পরও এর কোন সমাধান হচ্ছেনা।

ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, ঘরের রংয়ের প্লাষ্টার খসে খসে পড়ছে, স্যাঁতস্যাঁতে প্লাষ্টার রান্না করার সময় খাবারে পড়ে যায়! এই সমস্যার জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মায়ের সাথে থাকেন! তার স্ত্রী’র মানসিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে!

মিষ্টার গারসন বলেন, ২০০৯ সালে তার স্ত্রী এই বাসায় বসবাস শুরু করে তাদের প্রথম সদ্য জন্ম নেয়া মেয়ে নিয়ে!

তিনি আরো বলেন, বাসায় ছত্রাকের কারনে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, বাচ্চাদের খেলনা, আসবাব পত্র, এমনকি ষ্টোরে রাখা পেঁয়াজ ও আলুর মতো সবজিগুলোতে ছত্রাক পড়ে। ছাদের সিলিং থেকে রংয়ের টুকরো পড়তে থাকে গোসলের জায়গায়, শোবার ঘরে, বসার ঘরে!

মিষ্টার গারসন বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় সন্তানের অ্যাজমা সমস্যা হয়েছে এই বাসায় আসার দুইবছরের মধ্যে! এখন ধীরে ধীরে অন্য বাচ্চাদেরও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে!

তাদের সদ্য জন্ম নেয়া ছেলে সময়ের আগেই জন্ম নেয় এবং হাসপাতালের ইনকিউবিউটরে ছিলো। জন্মগতভাবেই তার গলার স্বরের জায়গা চিকন। এতে সে সারা জীবন চিকন স্বরে কথা বলবে, কিন্তু এই বাসায় থাকলে বাচ্চাটির শ্বাসকষ্ট তার জীবন শংকায় ফেলতে পারে।

এই বাড়ির মালিক যে হাউজিং এসোসিয়েশন অপ্টিভোর একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা বাসাটি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভিজিট করেছে, বাসার সর্বত্রই ছত্রাক দেখতে পেয়েছে। তারা ২০ জানুয়ারী ছত্রাক পরিস্কার করার জন্য লোক পাঠাবে। এছাড়া ছত্রাকের কারনে বাসায় জন্মানো নানা জীবানু ধ্বংস করার জন্য জীবানুনাশক টিম যাবে ১ ফেব্রুয়ারী। এছাড়াও বাসায় একটি বিশেষ ফ্যান লাগিয়ে দেয়া হবে, যেটি বাসাতে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা ও ছত্রাক জন্মাতে দিবে না।

হাউজিং এসোসিয়েশন অপ্টিভো বলছে, যদি মিষ্টার গারসন পরিবার অন্য বাসায় যেতে চায় তাহলে সেটা তাদের কাউন্সিলের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এটি কাউন্সিলের কাজ!

আর এম/তানভীর