ক্ষুধার্ত সন্তানদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাখছেন আফগানরা

২৬ নভেম্বর ২০২২, ০৫:০৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

Runner Media

ডেস্ক রিপোর্ট: 

আফগানিস্তানের অনেক বাসিন্দা তাদের ক্ষুধার্ত সন্তানদের খাবার দিতে না পেরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাখছেন। এমনকি অনেকে খাবারের খরচ জোগাতে নিজেদের কিডনি ও সন্তানও বিক্রি করে দিচ্ছেন। সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। আফগানিস্তানজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ খাদ্যসংকট। এতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। সন্তানকে বাঁচাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাখছেন স্থানীয়রা।

তালেবানের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পর আফগানিস্তানে এটি দ্বিতীয় শীত মৌসুম। তবে চিত্রটা ঠিক আগের মতোই। চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গেলবারের মতো এবারও আফগানিস্তানজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট। অনাহারে-অর্ধাহারে প্রতিনিয়তই বাড়ছে অপুষ্টি আর শিশুমৃত্যুর সংখ্যা।

পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, শিশুদের খাবার দিতে না পেরে তাদের কান্না থামাতে ক্ষতিকর ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাখছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয়রা জানান, অর্থাভাবে খাবার খরচ জোগাতে না পেরেই বাধ্য হয়ে সন্তানদের ঘুমের ওষুধ দিচ্ছেন তারা। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাতের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা সারা রাত কাঁদতে থাকে। ক্ষুধায় সারা রাত ঘুমায় না। ঘরে কোনো খাবার নেই যে ওদের খেতে দেব। তাই ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে ওদের খাওয়াই। যেন ওরা ঘুমিয়ে যায়।’

শুধু আব্দুল ওয়াহাব নন, ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না থামাতে স্থানীয়দের অনেকেই এ পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও জানান অনেকে। তবে এর চেয়েও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে বিবিসির ওই প্রতিবেদনে। এতে উল্লেখ করা হয়, খাবার খরচ জোগাতে না পেরে নিজেদের কিডনি এমনকি সন্তান পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। নিজের নাবালক মেয়েকে বিয়ে দেয়ার শর্তে বিক্রি করে দেয়ার কথাও জানান অনেকে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশের বাসিন্দা হজরতউল্লাহ বলেন, ‘আমার মেয়েকে ১২০০ ডলারের বিনিময়ে এক ছেলের কাছে বিক্রি করেছি, ওর ১৪ বছর হলে ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেব এই শর্তে।’ তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যে অর্থ পেয়েছি এর বেশির ভাগই খাবার কিনতে খরছ করেছি। অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে আমার ছোট ছেলের জন্য ওষুধ কিনেছি।’

দেশটিতে ক্ষুধার কষ্ট দূর করতে পদক্ষেপ সম্পর্কে হেরাতে তালেবানের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র হামিদুল্লাহ মোতাওয়াকিল বলেন, এ পরিস্থিতি আফগানিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আফগানিস্তানের সম্পদ জব্দ করার ফল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তালেবান সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।

আর এম/ এম সি